
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
চন্দনাইশ প্রতিনিধি:-
চন্দনাইশ শুক্লাম্বর দিঘীর মেলায় সনাতন ধর্মালম্বীদের মনের কামনা-বাসনা পূরণ করতে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নারী-পুরুষ একসাথে স্নানের জন্য বরমা শুক্লাম্বর দিঘীতে নেমে পড়ে। এই যেন তাদের অগাধ বিশ্বাস স্থাপনের মধ্য দিয়ে কনকনে শীতল জলে গোসল করা ইত্যাদি।
চন্দনাইশ উপজেলার বরমা ঐতিহ্যবাহী শুক্লাম্বর দিঘীর মেলায় যার যার মনোবাসনা পূরণ করতে শুক্লাম্বর দিঘীর পাড়ে এসেছে পুণ্যার্থীরা। যে যার সাধ্যমত ছাগল, কবুতর, গাভীর দুধ, স্বর্ণালংকার দান ও প্রসাদ বিতরণ করেছেন। ১৪ জানুয়ারী (বুধবার) পৌষ সংক্রান্তি শেষে মাঘ মাসের প্রথম দিন বসে এ মেলা। উপজেলার বরমা বাইনজুরী গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী শুক্লাম্বর দিঘী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দর্শনীয় নামে পরিচিত। এ দিঘীতে মানত করে মনোবাসনা পূরণ হয় বলে তাদের বিশ্বাস। এ মেলায় বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকাসহ পার্শ্ববর্তী ভারত, নেপাল, ভুটান থেকে আসে সনাতনী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির মানুষ মানত নিয়ে এ পীঠমন্দিরে আসে।
জনশ্রুতি আছে, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের নদীয়া থেকে ধর্ম প্রচারের জন্য আসা শুক্লাম্বর ভট্টাচার্যের ধর্মদেশনা স্থানে ৪ শতাধিক বছর পূর্বে শুক্লাম্বর ভট্টাচার্যের নামে এ মেলা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন প্রয়াত নিত্যানন্দ বৈলয়। শুক্লাম্বর দিঘীকে কেন্দ্র করে পৌষ সংক্রান্তিতে এ মেলা দিঘীর পাড়ে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। লোকজন বিভিন্ন মেলা ছাড়াও বছরের প্রতিদিন কেউ না কেউ এ পীঠমন্দিরে তাদের মানত নিয়ে আসতে দেখা যায়।
স্থানীয় লোকজনের মতে, শুক্লাম্বর ভট্টাচার্য এ দিঘীর পাড়ে বসে ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। দীর্ঘদিন ধ্যান মগ্নে থাকার পর ৪ শতাধিক বছর পূর্বে তিনি ইহ জগৎ ত্যাগ করলে, তাকে এ দিঘীর পাড়ে সমাহিত করা হয়। তার সমাহিত স্থানে একটি অশ্বর্থ বৃক্ষ বিশাল জায়গা জুড়ে স্মৃতি হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। পূজারীরা এ অশ্বর্থ বৃক্ষের ডালে সুতা বাঁধে মনোবাসনা পূরণের আশায় কবুতর ছেড়ে দেয়। মন্দিরের জন্য মানত করা শত শত ছাগল বলী দেয়। বিভিন্ন পূজনীয় দান মন্দিরে উৎসর্গ করেন মেলায় আসা পুজারীরা। তাছাড়া দিঘীতে মেলার দিনসহ বিভিন্ন সময়ে গাভীর দুধ ঢেলে দেয়, স্নান করে তাদের মনোবাসনা পূরণের জন্য। দিঘির দক্ষিণ পাড়ে একটি শিবমন্দিরও রয়েছে।
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে হাজার হাজার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের নানা মনের বাসনা পূরণের লক্ষ্যে মানুষগুলো একই মোহনায় মিলিত হয় শুক্লাম্বর দিঘীতে পৌষ সংক্রান্তির এ মিলন মেলায়। এখানে দিনব্যাপী চলে পূজা-উৎসব। সে সাথে প্রত্যেকে স্ব-স্ব ধ্যানে-জ্ঞানে মগ্ন থাকে পূজা-অর্চনায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রী শ্রী শুক্লাম্বর দিঘী উন্নয়ন কমিটির সভাপতি বাবু হারাধন দেব, সহ-সভাপতি অরুপ রতন চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক নৃপেন্দু দত্ত, সহ-সাধারণ সম্পাদক পরিমল মহাজন ও বিপ্লব চৌধুরী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আশীষ দেব, অর্থ সম্পাদক রামপ্রসাদ ভট্টচার্য্য ও রুবেল দেব, সহ-অর্থসম্পাদক কিরণ তালুকদার, প্রচার ও প্রকাশনালয় ডা. কাজল কান্তি বৈদ্যসহ যথাক্রমে ভবশংকর ধর, সমীর গাইড, প্রদীপ দেব, মিলন দেব, টিংকু ধর, অশোক দত্ত, রমসু মহাজ, অপন দেব,তরুণ দেব, রুবেল দেবসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের দূর দূরান্ত থেকে আগত নারী-পুরুষ।