1. info@www.dainikdeshbarta.com : bissho sangbad Online : bissho sangbad Online
  2. info@www.dainikdeshbarta.com : Dainik Desh Barta :
সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গোলামানে গাউছুল আজম দস্তগীর সংগঠনের উদ্যোগে দুইদিনব্যাপী ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প উদ্বোধন ১৪ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী জসীম উদ্দীন আহমেদ’র প্রধান সমন্বয়কারী এম.এ. হাশেম রাজু চন্দনাইশে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে দোয়া মাহফিল সিএমপি’তে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোঃ হুমায়ুন কবির  এর পদোন্নতিজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত ২ মিনিটেই ক্যাশবাক্স ভেঙে বোয়ালখালীতে দোকানির দেড় লাখ টাকা চুরি বেতাগী আনজুমানে রহমানিয়ার আর্ন্তজাতিক মানের শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত ওমানের ইবরিতে বোয়ালখালীর সেলিমের মৃত্যু সভাপতি মফিজ, সম্পাদক হাসান চন্দনাইশে অটোরিকশা চালক সমবায় সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন পটিয়ায় জিরি প্রানকৃষ্ণ ঈশান চন্দ্র বিষ্ণু মন্দির ফ্রি কোচিং সেন্টার নতুন ভবন নির্মান কাজের উদ্ভোধন সোনাইমুড়ীতে ব্যাডমিন্টন খেলার পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

লজিং মাস্টার ও ছাত্র জীবন -লায়ন মোঃ আবু ছালেহ্

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১১১ বার পড়া হয়েছে

একই ইউনিয়নের পাঁচ জন বিসিএস ক্যাডারের শিরোনামটি পড়ে আচমকা মনে পড়ে গেল আমাদের সময়ের ছাত্র জীবনের কিছু কথা। একসময় যাতায়ত সুবিধা এত উন্নত ছিলোনা। দূর দুরান্ত হতে পড়ালেখা করার জন্য ছেলেরা ছুটে আসত মফস্বল কিংবা নগরে। সব কলেজে হোস্টেল সুবিধা নেই আবার হোস্টেল থাকলেও খাওয়া দাওয়ার একটা খরচের ব্যাপার আছে। তার উপর বেশির ভাগ ছাত্র উঠে আসে নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে। তাই সাধ ও সাধ্য যেন তাদের হিসেব করতে বাধ্য করে।
কলেজে পড়া অবস্থায় আমারই ক্লাসের এক ছেলে নাম তোফায়েল হঠাৎ দেখলাম তাকে পাশের বাড়ীতে লজিং মাস্টার হিসেবে থাকে। তার মুখের হাসিটা কিন্তু বেশ দারুণ। বাড়ী টেকনাফের হৃীলা’তে। যথেষ্ট মেধাবী সে। তার লজিং মাস্টারের পাশাপাশি সে যে গুরু দায়িত্ব পালন করেছে তা হলো তার ছাত্রদের সে ইসলামি ছাত্র শিবিরের আদর্শে গড়ে তুলেছে। যেহেতু কলেজে একই সাথে যাওয়া আসা করতাম তার সাথে সখ্যতা ছিলো। তার মেধা ছিল। সেটাকে সে কাজে লাগিয়েছে তবে ভালো কোন পজিশনে আছে কিনা জানিনা। আমার দৃঢ় বিশ্বাস সে ভালোই থাকবে।
আমার বাড়ীতে একজন লজিং মাস্টার ছিলো তার নাম মন্নান বাড়ী শোভনদন্ডী অত্যন্ত মেধাবী আমার এক বছরের সিনিয়র কিন্তু আমরা ছিলাম বন্ধু সুলভ। সে ছিল ছাত্র লীগের একনিষ্ঠ কর্মী। লেখা পড়ার ক্ষুরধার তার মধ্যে বিরাজমান। একাউন্টিংয়ে সে খুবই পাক্কা। জানিনা এখন সে কোথায় আছে তবে ভালো কোন অবস্থানে থাকবে নিশ্চয়। আমাদের একটা গ্রুপ ছিলো আমরা অবসরে বড় ভাই ছোট ভাই মিলে টুয়েন্টি নাইন খেলতাম। আমাদেরকে ওনারা শিখিয়ে দিত। এটি আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও ভাতৃত্ব দুটো শিখিয়েছে। আমরা কখনো ভুলেও কোন খারাপ পথে কিংবা নেশায় কিংবা টাকা দিয়ে খেলা এসবে যুক্ত হইনি। আমাদের বাড়ীর সবাই শিক্ষিত। এজন্য গর্ব হয়। সবাই উদার মনের ও সংস্কৃতি মনা। মাস্টার মন্নান ও সবার সাথে মিলেমিশে একাকার।
তখনকার গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই নাজুক ছিলো। আমাদের উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলেও যাওয়া আসার ভোগান্তি ছিল চরম। তাই অনেকেই মহাসড়কের আশেপাশে লজিং থাকতো যেন কলেজে যাতায়াতে সুবিধা হয়। তেমনি একজন জাহাঙ্গীর মাস্টার বাড়ী আশিয়া। তিনিও সিনিয়র ছিলেন। কিন্তু ঐযে আমাদের বাড়ীর পরিবেশ সেটার সাথে মিশে গেছেন। এদিকে কাছে হলেও প্রয়োজনের তাগিদে লজিং থাকত মোরশেদ মাস্টার। ঐযে বললাম খেলাধুলা সংস্কৃতি মনা বিষয়টি সবার মাঝে ছিলো তাই ব্যাটমিন্টন, কেরাম, ফুটবল, ক্রিকেট সব খেলায় আমাদের সাথে ছিল তারাও। তারাও হয়তো ভালো অবস্থানে আছে।
এরকম আরো অনেক নাম আছে যারা মেধাবী হয়েও অর্থের কারণে নিজেকে তুলে ধরতে পারেনি। পারিবারিক সমস্যা বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় ছাত্রজীবনে। যেমন আমারই প্রাইভেট শিক্ষক রফিক স্যার, নজরুল স্যার এলাকায় ওনাদের খ্যাতি ছিলো মেধাবী হিসেবে। কিন্তু পারিবারিক সমস্যা তাঁদেরকে বেশি দূর যাওয়ার সুযোগ দেয়নি। যদিও বর্তমানে রফিক স্যার প্রবাসী এবং নজরুল স্যার বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তা। দু’জনই আমাকে খুব ভালোবাসেন এবং বন্ধু সুলভ ছিলেন।
আরেকজন সংগ্রামী যুবকের নাম না বললে নয় তিনি হলেন শাহজাহান ভাই, এলাকার অনেক ছেলে মেয়ে ওনার হাত ধরে শিক্ষার আলোতে উদ্ভাসিত হয়েছে। তিনি ছিলেন পটিয়া কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি। আর আমাদের ২৯ খেলার অংশীদার।
আমরা যারা এত এত সুবিধার মধ্যে ছিলাম আমাদের সুদূর সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতকে আমরা মূল্যায়ন করিনি। অথচ লজিং মাস্টার হয়ে দূর দুরান্ত হতে পরের বাড়ীতে থেকে নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তাঁরা সচেতন ছিল। আমার কেনজানি মনে হয় এসব উপকূলের ছাত্ররা কিংবা অবহেলিত জনপদের ছেলেরা সবসময় জীবন যুদ্ধে জয়ী হয়। তাদের জীবন কাহিনি পড়লে পাওয়া যাবে এরকম হাজারো লজিং মাস্টার কিংবা প্রাইভেট শিক্ষক অথবা জায়গীর হয়ে নিজেকে গড়ে তুলার একেকটি ইতিহাস। আর যারা হাজারো সুযোগ সুবিধা পেয়েছে তারা পায়ে ঠেলে দিয়েছে তাদের ভবিষ্যৎ। ভালো ভালো পজিশনে যারা আজ অধিষ্ঠিত তাদের বেশির ভাগই কষ্টে জীবন যাপন করে, হোস্টেলে থেকে নিজেদেরকে গড়ে তুলেছে।
সেসময় প্রাকৃতিক পরিবেশ আর খেলাধুলাময় জীবনের অবসর সময় গুলো কেটে যেত। এখনকার মতো ভার্চুয়াল ছিলনা, ডিভাইস ছিলনা, গেইম কিংবা ইভেন্ট ছিলনা। ছিলনা মোবাইল তাই অনায়াসে কেটেছে জীবনের প্রতিটি দিন প্রকৃতির সাথে।
লেখকঃ প্রাবন্ধিক, সম্পাদক

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট