
বোয়ালখালী প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার বেঙ্গুরায় গভীর রাতে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে চারটি বিদেশি শটগান, দুটি বিদেশি পিস্তল, ১৩ রাউন্ড গুলি এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. সালাহউদ্দিন রুমি (৫১) ও সাইফুল ইসলাম বাপ্পি (৫৬)। তারা সম্পর্কে ভাই এবং মৃত আবুল বশরের ছেলে। তাদের বাড়ি বোয়ালখালী উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের হোরারবাগ চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায়।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) মধ্যরাতে স্থানীয় সোর্সের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এডহক ৪৮ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল সালাহউদ্দিন আল মামুনের দিকনির্দেশনায় বোয়ালখালী আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মো. রাসেল প্রধানের নেতৃত্বে বেঙ্গুরা এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে সেনাসদস্যরা অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে সন্ত্রাসীদের আস্তানায় অভিযান চালায়। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। তবে সেনাসদস্যদের তৎপরতা ও চতুর্মুখী কৌশলে তারা পালাতে ব্যর্থ হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
পরে গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও সতর্ক অনুসন্ধানের মাধ্যমে একটি পরিত্যক্ত বাড়ির সিলিং, আলমিরার গোপন বাক্স, গোয়ালঘরের খড়কুটোর নিচে এবং একটি নির্মাণাধীন ভবনের বালির নিচে লুকিয়ে রাখা চারটি ভিন্ন স্থানের অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে বোয়ালখালী আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মো. রাসেল প্রধান জানান, গ্রেপ্তার সালাহউদ্দিন রুমির বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলাসহ মোট ছয়টি এবং সাইফুল ইসলাম বাপ্পির বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলাসহ চারটি মামলা রয়েছে। তারা বিগত নির্বাচনসহ বিভিন্ন সময়ে অস্ত্র ব্যবহার ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ছিল। পাশাপাশি তারা নিজেদের তৈরি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র বোয়ালখালীসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্রের কাছে বিক্রি করত।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচনের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এই গ্রেপ্তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, অভিযান শেষে বোয়ালখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও মালামাল জব্দ করে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।