রবিউল হাসান, নোয়াখালী:
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসের গোপন তথ্য রাজনৈতিক দলের কাছে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় ভোটারদের মনে ব্যপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঐ অফিসের অফিস সহায়ক সহিদ উল্লাহ বিরুদ্ধে নির্বাচন কর্মকর্তার মো. বুলবুল আহম্মদের কাছে এমন অভিযোগ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা কর্মীরা।
জানা যায়, অফিস সহায়ক সহিদ উল্লাহ এক সময় একটি রাজনৈতিক দলে সক্রিয় ছিলেন। সেই সুবাদে ঐ দলের নেতা-কর্মীদের সাথে তার সুসম্পর্ক রয়েছে। আর সেই সম্পর্ক থেকেই নির্বাচন অফিসের বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য পাচার করে থাকেন। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা জুড়ে ব্যপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চার দিকে শুরু হয়েছে আলোচনা ও সমালোচনার।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাকে সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য পাচার এবং সেবা গ্রহিতাদের বিভিন্ন হয়রানির অভিযোগে শাস্তিমূলক বদলি করা হয় লক্ষীপুরের কমলনগর উপজেলায়। সেখান থেকে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে পুনরায় এক রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতার সুপারিশে তাকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় বদলি করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার এক কর্মচারী জানান, সোনাইমুড়ী উপজেলার নাটেশ্বর ইউনিয়নের নজরপুর গ্রামের বাসিন্দা সহিদ উল্লাহ। একই ইউনিয়নের এক রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রিয় নেতার বাড়ি হওয়ায় তার ১ম স্ত্রী নুর জাহান বেগম ঐ নেতার বাড়িতে গৃহ কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। এর কারনে সে উপজেলা নির্বাচন অফিসের পুলিশ ও সেনাবাহিনীর প্রদত্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রের তালিকা সহ অন্যান্য গোপনীয় তথ্য মোবাইল ফোনে ছবি তুলে সরবরাহ করেছেন। সে নিজেকে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী পরিচয় দিয়ে উপজেলার অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ভয়ভীতি দেখান।
বেগমগঞ্জ নির্বাচন কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতা কর্মীরা তার কাছে অফিসের গোপন তথ্য সরবরাহের বিষয়টি নিয়ে মৌখিক অভিযোগ করেছেন। পরবর্তীতে তিনি অফিস সহায়ক সহিদ উল্লাহকে ডেকে এনে সতর্ক করেছেন বলে নিশ্চিত করেন।
অফিস সহায়ক সহিদ উল্লাহ বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগটি সঠিক নয়। তিনি এ ধরনের কোনো কাজে জড়িত নয়।
লায়ন মোঃ আবু ছালেহ্ সম্পাদিত ও হাজী জসিম উদ্দিন প্রকাশিত