
বোয়ালখালী প্রতিনিধি :
চট্টগ্রাম-৮ আসনটি জাতীয় নাগরিক পার্টিকে দেওয়া হয়েছে কি না? এমন প্রশ্নের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে বোয়ালখালী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃবৃন্দরা।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে পৌর সদরের একটি রেষ্টুরেন্টে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এনসিপি বোয়ালখালীর প্রধান সমন্বয়কারী কাজী ইয়াছিন।
চট্টগ্রাম-৮ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাছেরের সমর্থনে আয়োজিত একটি মিছিলে ‘এনসিপি বয়কটের’ স্লোগান প্রদানের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের ক্রান্তিকালে গণ-অভ্যুত্থান থেকে উদ্ভূত রাজনৈতিক শক্তি এনসিপি দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জামায়াত ইসলামির সঙ্গে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ নামে গঠিত দশ দলীয় জোটে অংশগ্রহণ করেছে।
তবে দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কিছু কিছু আসনে জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিভ্রান্তিকর তৎপরতা ও অসহযোগিতামূলক আচরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা দশ দলীয় জোটের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার পরিপন্থী।
জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এনসিপিকে চট্টগ্রামে শুধুমাত্র চট্টগ্রাম-৮ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুসারে এনসিপির পক্ষ থেকে জোবাইরুল হাসান আরিফ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও দাখিল করেন।
লিখিত বক্তব্য বলা হয়, এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফকে সমর্থন জানিয়ে জোটের অন্যান্য প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেও, দশ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী ডা. আবু নাসের মনোনয়ন প্রত্যাহার না করে অস্বস্তিকর ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন।
এরপর জামায়াত ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডা. আবু নাসেরের সরে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। তাঁর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ইন্ধনে বোয়ালখালীতে জোটের প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফের বিরুদ্ধে মিছিল করা হয়।
এ মিছিল থেকে সম্প্রতি “এনসিপি বয়কট” স্লোগান প্রদান করা হয়, যা দশ দলীয় জোটের ঐক্যের সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং রাজনৈতিকভাবে চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অনভিপ্রেত আচরণ।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এই এনসিপি নেতা বলেন, দশ দলীয় জোটের ক্ষতি হয় এমন কোনো কর্মসূচি বা আওয়ামী লীগ-ধাঁচের বিভাজনমূলক স্লোগান বোয়ালখালী উপজেলা এনসিপি কখনোই মেনে নেবে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে জুলাইয়ের ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে, দশ দলীয় জোটকে এবং পরোক্ষভাবে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর সম্মানিত আমীরের সিদ্ধান্তকেও অবজ্ঞা করা হচ্ছে-যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এই প্রেক্ষাপটে আমরা জামায়াত ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নিকট সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করছি চট্টগ্রাম-৮ আসনটি জাতীয় নাগরিক পার্টিকে দেওয়া হয়েছে কি না ?
যদি চট্টগ্রাম-৮ আসনটি এনসিপিকে বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকে, তবে দশ দলীয় জোটের সকল শরিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে জোট মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
আর যদি জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে দ্বৈত আচরণ ও অসহযোগিতা চলতেই থাকে, তবে বিনয়ের সঙ্গে জানতে চাই তাহলে কেন জোট গঠনের নামে এই রাজনৈতিক নাটক?
দশ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জোটকে কার্যকর, শক্তিশালী ও টেকসই রাখতে হলে চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী সংক্রান্ত সংকট দ্রুত ও স্পষ্টভাবে সমাধান করতে হবে।
এতে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি চট্টগ্রাম দক্ষিণের যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ সেলিম, বোয়ালখালী এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী আবরার হাবিব, ফয়সাল রায়হান, যুবশক্তির সাঈদ বিন ইব্রাহিম, সদস্য আকতার আশিকি, শাহনেওয়াজ মাহিন প্রমুখ।