1. info@www.dainikdeshbarta.com : bissho sangbad Online : bissho sangbad Online
  2. info@www.dainikdeshbarta.com : Dainik Desh Barta :
মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ০১:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পটিয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর আনারস প্রতীকের সমর্থনে বড়লিয়া ইউনিয়নের প্রধান নির্বাচন কার্যালয় উদ্ভোধন ও সভা কাতারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ ট্রেড ফেয়ার ২০২৪ জৈষ্ঠ্যপুরা রমনি মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে  চলছে ক্ষুদে ‘শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা’ কার্যক্রম পটিয়া উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীর আনারস মার্কার সমর্থনে জিরি ইউনিয়ন নির্বাচনী প্রধান কার্যালয় উদ্ভোধন ও সভা চন্দনাইশে বৌদ্ধ পরিষদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাবু নিবু কান্তি বড়ুয়ার উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন পটিয়া বিএনপির প্রস্তুতি সভায় এনামুল হক এনাম কারচুপি ও প্রহসনের নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ নেই। শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রেখে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান গৌরব অর্জনে সারোয়াতলী পূর্ণ চন্দ্র সেন উচ্চ বিদ্যালয় ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মাও.সোলাইমান ফারুকীর গণসংযোগ চট্টগ্রামে ভুয়া জন্মসনদ নিয়ে কাউন্সিলর কার্যালয়ে, গ্রেপ্তার ২ রেজাউল করিম রাজার সমর্থনে বোয়ালখালীতে মতাবিনিময় সভা

 কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের বিষ্ফোরণ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের অংশমাত্র – কাজী তানভীর হোসেন

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ১৩৯৩ বার পড়া হয়েছে

রিকার্ডো এবং এডাম স্মিথ দ্বারা অর্থনীতির বিশ্লেষণকে ভিত্তি করে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কয়েক দশক পূর্বে কার্ল মার্ক্স ‘উদ্বৃত্ত-মূল্য-তত্ত্ব’ উদঘাটন করেন এবং তত্ত্বটি অনেকগুলো গ্রন্থে ব্যাখ্যা করেন। সেইসঙ্গে মার্ক্স পুঁজি-পণ্যের মৌলিক চরিত্রের বিশ্লেষণ করে তৎকালে দেখিয়েছেন যে, গত ছয় হাজার বছর সমাজের সদস্যদের মৌলিক চাহিদার অভাবগুলো গভীরতরভাবে সম্পত্তির ব্যাক্তিগত মালিকানার অর্থনৈতিক সিস্টেমের সাথে সম্পৃক্ত। মার্ক্সের মৃত্যুর পর, মার্ক্স কর্তৃক উদঘাটিত তত্ত্বের মানদন্ডে আরও অনেক সামাজিক-প্রাকৃতিক সমস্যার কারণ উদঘাটন ও লিপিবদ্ধ হয়েছে— তারমধ্যে ‘সাম্রাজ্যবাদী-যুদ্ধ সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর’ একটি। আজকের প্রবন্ধটিতে ‘উদ্বৃত্ত-মূল্য’ রক্ষার শর্তের একটি সারসংক্ষেপ হাজির করে, শর্তের ফল ‘সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ’র তত্ত্বটিকে সম্প্রসারিত করে তার ফলাফলকে আধুনিক বৈশ্বিক উৎপাদন পদ্ধতি, উৎপাদনের সরঞ্জাম ও সরঞ্জামের অবিরাম উন্নতির সাথে সমন্বয় করে উপরে উল্লিখিত শিরোনামের প্রসঙ্গে ফেরা যায়।

আধুনিক সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধে পুঁজিপতিদের ছোট-বড় জোট একে-অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেয়। যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী গোষ্ঠীগুলোর প্রথম ও প্রধান পরিচয় হল তারা পুঁজির রক্ষক-সংরক্ষক অথবা স্বয়ং পুঁজির মালিক। অতএব, তাদের আন্তঃসংঘাত হল প্রধানত পুঁজি রক্ষার সংঘাত। আজ আমরা দেখতে হবে যুদ্ধের সাথে পুঁজি-পণ্যের কোনো সম্পর্ক আছে কিনা। পুঁজি রক্ষার শর্ত- পুনরুৎপাদন ও সঞ্চালন। পণ্য সঞ্চালন না হলে, অর্থাৎ পণ্য বাজার দখল না করতে পারলে পুনরুৎপাদন ঘটিয়ে লাভ নেই, বরং উৎপাদিত পণ্যগুলোর উৎপাদন খরচও বৃথা হয়ে যায়। অতএব, পুঁজি রক্ষার তুলনামূলক গভীর শর্ত হল পণ্যের বাজার দখল।  আজকের বৈশ্বিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে আমরা দেখি বাজারে জমে গেছে একঝাঁক পণ্য। পণ্য ক্রয়ের চাহিদা থাকলেও অধিকাংশ মানুষের পণ্য কেনার সামর্থ্য নেই। উচ্চশিক্ষিত লোক যে হারে উৎপাদন হচ্ছে সে হারে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার বদলে শ্রমিক ছাঁটাই শুরু হয়েছে সারাবিশ্বে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক যন্ত্রপাতিকে কাজে লাগিয়ে একাধিক শ্রমিকের কাজ একজন দ্বারাই সম্পন্ন হচ্ছে। ফলে বেকারত্বও সৃষ্টি হচ্ছে, পাশাপাশি তারা পণ্য ক্রয়ের ক্ষমতা হারাচ্ছে। ফলে পণ্য একদিকে আরও আরও উৎপাদিত হলেও, যথেষ্ট বিক্রি বা সঞ্চালন হচ্ছে না।

এসময়ে একটি যুদ্ধ কেন প্রয়োজন?  যুদ্ধ থেকে কী পায় পুঁজির মালিক? সাধারণত যুদ্ধ সৃষ্টির মাধ্যমে গোটা বিশ্বকে একটি কসাইখানা বানিয়ে বলিদান করা হয় লক্ষ লক্ষ শ্রমিককে। পণ্য উৎপাদনে বাঁধা সৃষ্টি করতে শ্রমশক্তি বিনাশ তথা শ্রমিক হত্যা করা প্রয়োজন। এটি করলে বিশ্ববাজারে পণ্যের সংকট তৈরী হয়। যুদ্ধে সরাসরি পণ্য ধ্বংসের মধ্য দিয়েও বাজারে পণ্যের সংকট তৈরী করা হয়। তাছাড়াও রাস্তাঘাট ধ্বংসের মধ্য দিয়ে পণ্য যথাসময়ে বাজারজাতকরণেও বাঁধা সৃষ্টি করে। ফলে বিশ্ববাজারে যখন পণ্যের সংকট দেখা দেয়, তখন যুদ্ধে বিজয়ী বুর্জোয়ারাষ্ট্র তাদের পণ্য সঞ্চালন-পুনরুৎপাদন করার মাধ্যমে নিজেদের পুঁজি রক্ষার সুযোগ তৈরী হয়।

এবার আজকের যুদ্ধ-অর্থনীতির যুগের সারকথা উল্লেখ করা যাক। পণ্য ধ্বংস করে পণ্যের চাহিদা ও পুঁজি রক্ষার যুগ হল অতিউৎপাদনের যুগ। বুর্জোয়া যুদ্ধ, বা আধুনিক সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ হল পণ্যের সঞ্চালন সংকটের বিরুদ্ধে বুর্জোয়াদের আত্মঘাতী যুদ্ধ। এই যুদ্ধে নির্দিষ্ট বুর্জোয়া জোট অপর জোটের বিরুদ্ধে পুঁজি রক্ষার শর্তে অনিচ্ছাসত্ত্বে একটি পরিকল্পিত যুদ্ধ সৃষ্টি করে।

পণ্যের সঞ্চালন সংকটে পড়ে বুর্জোয়ারা আগের চেয়ে বেশি অস্থির সময় কাটাচ্ছে। তাই পণ্যের বাজার রক্ষার জন্য বিশাল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে পণ্যের বিজ্ঞাপন দেওয়ার চাহিদা এখন তুঙ্গে। সেই সুযোগে গণমাধ্যমগুলো খুব সহজে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করছেন। কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের জনপ্রিয়তা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধুমাত্র কন্টেন্ট ক্রিয়েট করে একটি বিশাল প্রতিষ্ঠানের সমপর্যায়ে চলে আসা ক্রিয়েটরের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মন্দার অর্থনীতিতে যখন বিশ্বের খেঁটে খাওয়া মানুষ সারাদিন কাজ করে দুবেলা ভাতের জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে ইন্টারনেটে ছোটোখাটো ভিডিও প্রচার করে কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা আয় করছে বিশাল অঙ্কের অর্থ। এই আয় হল জমে যাওয়া পণ্যের, জমে যাওয়া শ্রমের অস্বাভাবিক বন্টনের ফলাফল। যখন পণ্যের রিভিউ করে একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর লাখ লাখ টাকা আয় করছে, তখন পণ্যের উৎপাদনকারী শ্রমিক হয়তো চাকুরিচ্যুত হয়েছে, নয়তো তার মজুরি নিম্নস্তরে রয়ে গেছে।

হিরোইজম থেকে কন্টেন্ট ক্রিয়েশন-প্রিয়তা প্রসারিত হতে পারে কিন্তু তা একটি সীমা পর্যন্ত। কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের নজিরবিহীন বিষ্ফোরণ শুধুমাত্র হিরোইজমের ফল নয়।  এটা হল সেই সময়, যখন উৎপাদিত পণ্যের বন্টন প্রক্রিয়ার তাত্ত্বিক ও ব্যাবহারিক সীমাবদ্ধতা পর্যায়বৃত্তভাবে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক মন্দার জন্ম দিয়েছে এবং তৃতীয় বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ হওয়ার অত্যাধিক সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা যদি ইচ্ছে করে চোখ বন্ধ না রাখি তাহলে এটি স্পষ্টভাবে দেখতে পাবো যে, কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের নজিরবিহীন জনপ্রিয়তা বিশ্ব-অর্থনীতির একটি বিশাল প্রয়োজনীয় জিনিস। জমে যাওয়া পণ্যের সঞ্চালনের লক্ষ্যে পণ্যের বিজ্ঞাপন দেওয়াই যেন অহরহ কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের জন্ম দিচ্ছে। মিডিয়া আপনাকে শুধুমাত্র বিনোদন দেয় না, সারকথা হল এটি বিজ্ঞাপনও দেখায় এবং এটাই তাদের টিকে থাকার শর্ত। এটি আরও স্পষ্ট, যখন আপনি জানেন যে- জনপ্রিয় অ্যাপগুলো ব্যাবসায়ীক প্রতিষ্ঠানগুলোর দখলে রয়েছে।  সামাজিক যোগাযোগের অ্যাপগুলোও ব্যাবসায়িক একাউন্টগুলোকে প্রমোট করছে এবং পলিটিক্যাল কিংবা একাডেমিক একাউন্টগুলোকে মিউট করছে। একাডেমিক একাউন্টগুলোও বিজ্ঞাপনের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে এবং সেটাই তাদের শিক্ষাদানের লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

কী ঘটবে যদি পৃথিবীটা আরেকটি কসাইখানায় পরিণত হয়? যদি একটি বিশ্বযুদ্ধ সত্যিই আগের যুদ্ধগুলোর মতো যথেষ্ট পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি করে আবার কিছুকালের জন্য পণ্যের সঞ্চালন ও পুনরুৎপাদনের মাধ্যমে পুঁজি রক্ষা করে? আমাদের প্রসঙ্গটি কন্টেন্ট ক্রিয়েশন কিম্বা সাংবাদিকতা রিলেটেড ছিল। তাই এই পেশায় কী ধরনের প্রভাব পড়বে তা আলোচনা করা যেতে পারে। শুরুতে যা ঘটবে তা হল পণ্যের সঞ্চালন বাড়তে শুরু করলে পণ্যের বিজ্ঞাপন দেওয়ার চাহিদা উবে যাবে। এর মানে হল, বিশ্বযুদ্ধ যতদিন, গণমাধ্যমের পৌষমাস স্থায়ী হবে ততদিন। কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের প্রমোশন ধীরগতির সম্পন্ন হতে শুরু করবে। ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা মিডিয়াগুলো দেউলিয়া হতে শুরু করবে। আমি সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদেরকে নিরুৎসাহিত করতে চাইনা। আমি এসব জেনেশুনে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা অধ্যয়ন করেছি। কারণ, এত কিছুর পর আশাবাদের ভাষাও আছে। আজকের যুগ পণ্যের আধিপত্যের যুগ৷ পণ্য উৎপাদন পদ্ধতি বৈশ্বিক। সাধারণ কিছু জিনিসপত্র উৎপাদনেও এমন সব কাঁচামাল প্রয়োজন হচ্ছে যার জন্য ভিন্ন দেশের উপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে। এই নির্ভরশীলতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাজেই এখানে গণযোগাযোগ অধ্যয়নের মূল্য রয়েছে।

যাইহোক, আমার সংক্ষিপ্ত পরিসরের রচনাটি তাদের কাছে দুর্বোধ্য হতে বাধ্য, যারা গভীরভাবে রাজনীতি-অর্থনীতি চর্চা করার সুযোগ পায়নি। আমাদের আজকের আলোচনাটি চলছে কোটি কোটি মানুষের রক্তাক্ত লাশের উপর দাঁড়িয়ে, কোটি কোটি ক্ষুধার্ত দিশেহারা মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্নতা মাথায় নিয়ে। কাজেই আমাদের অধ্যয়নের লক্ষ্য হওয়া উচিত সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার যোগ্য হয়ে ওঠার জন্য।  জানার জন্য আছে আমাদের গোটা জগৎ, আর আমাদের লক্ষ্য পূরণের জন্য আছে আমাদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার “আর্ট অব কম্যুনিকেশন”। আজ আমরা সিদ্ধান্ত নিতে হবে পুঁজি রক্ষার জন্য মানুষ হত্যা জায়েজ নাকি মানুষ রক্ষার জন্য পুঁজির কবর রচনা করা জায়েজ। মানুষের মধ্যে সহযোগিতার সমাজ জায়েজ নাকি প্রতিযোগিতার সমাজ জায়েজ। আমাদের অবশ্যই বিপদকে মোকাবিলা করার জন্য প্রথমে নিজেদের বিপদকে জানতে হবে। আশা করি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতার প্রধান টার্গেট হয়ে উঠবে একটি মুক্ত বিশ্ব নির্মাণ করা। আমাদের যথেষ্ট সম্পদ আছে, আমরা আধুনিক হয়েছি, আমাদের উৎপাদনের মেশিন আধুনিক হয়েছে, আমাদের পণ্য আধুনিক, আমাদের যোগাযোগ মাধ্যম আধুনিক, আমাদের শুধুমাত্র বন্টন প্রক্রিয়াটি সেকেলে রয়ে গেছে। এটা কাটিয়ে উঠতে হবে। আমরা যাতে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের অংশ না হয়ে পড়ি। আমরা যাতে বুঝতে পারি, আজকের কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের বিষ্ফোরণ মূলত বিপর্যয়কর বৈশ্বিক অর্থনীতির বা যুদ্ধ-অর্থনীতির একটি অংশমাত্র।

লেখকঃ অপিনিয়ন কলামিস্ট এবং পলিটিক্যাল এক্টিভিস্ট

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট